প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চূড়ান্ত হলো ডিআরএমসি’র নতুন ভবনের নকশা

১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। দেশের অনেক প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, আমলা, কূটনীতিবিদ, স্থপতি, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন পেশায় সফল অনেকে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিলেন। ৫২ একরের এই ক্যাম্পাসে বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণিতে ৬,০০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তবে, ষাট বছর আগে নির্মিত অবকাঠামোতে বর্তমান সময়ের চাহিদার সংকুলান ঘটানো সম্ভব হচ্ছে না। দেড়শো’র কাছাকাছি স্থাপত্য-পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এতে রেজিস্ট্রেশন করে এবং পরবর্তীতে প্রায় একশো’টি প্রস্তাবনা এতে জমা পড়ে। বিচারকদের নানা পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিচারে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয় ও সেরা ৬টি ডিজাইন-প্রস্তাবনা নিয়ে প্রদর্শনী শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের পরিকল্পনা উইংয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাবের হোসেন এবং ওল্ড রেমিয়ান্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পাবলিসিটি সেক্রেটারি জনাব আহমেদ আশফাকুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের ২৬তম নির্বাহী পরিষদের সভাপতি স্থপতি অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম আহমেদ। ডিজাইন কম্পিটিশনে ডিআরএমসি’র পক্ষ থেকে জুরিবোর্ডে ছিলেন, অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাবের হোসেন এবং ওল্ড রেমিয়ান্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট মশিউর রহমান। জে.এ. আর্কিটেক্টসের প্রিন্সিপাল আর্কিটেক্ট স্থপতি জালাল আহমেদ, সিন্থেথিস আর্কিটেক্টসের প্রিন্সিপাল আর্কিটেক্ট স্থপতি প্যাট্রিক ডি রোজারিও এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক স্থপতি এসএম নাজিমুদ্দিন পায়েল জুরিবোর্ডে ছিলেন। তাদের পক্ষ থেকে স্থপতি প্যাট্রিক ডি রোজারিও বক্তব্য দেন। আরও বক্তব্য দেন—ডিজাইন কম্পিটিশনের ডিরেক্টর স্থপতি আহমেদ ফিরোজ উল হক রবিন, ডেপুটি ডিরেক্টর স্থপতি মুহাম্মদ শাফায়েত হোসেন এবং স্থপতি ইনস্টিটিউটের সম্পাদক (পেশা) স্থপতি এম ওয়াহিদ আসিফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্থপতি সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার। ডিজাইন কম্পিটিশনে প্রথম হয়েছে স্থাপত্য-পরামর্শক ফার্ম ফর্ম৩.আর্কিটেক্টস। প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল আর্কিটেক্ট স্থপতি দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া। স্থপতি নবী নেওয়াজ খানের নেতৃত্বে দ্বিতীয় হয়েছে আর্কিগ্রাউন্ড লিমিটেড। তৃতীয় হয়েছে আরকেডিয়ান আর্কিটেক্টস। এই দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্থপতি তাওহিদুর রশিদ। এছাড়া জিরো ডি কনসালট্যান্টস, ক্ষেত্র, এবং রুফলাইনার্স_স্টুডিও অব আর্কিটেকচার বিশেষ সম্মাননা পেয়েছে। প্রথম স্থান অধিকারী প্রস্তাবনাটি নির্মাণের জন্য চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে ফর্ম৩.আর্কিটেক্টস জানিয়েছে, ডিআরএমসি’র নতুন দশতলা অ্যাকাডেমিক ভবনের নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে এর ঐতিহ্য ও প্রেক্ষাপটকে গভীরভাবে অনুধাবনের মাধ্যমে। ক্যাম্পাসের স্থাপত্যিক বিন্যাস, সাংস্কৃতিক ছন্দ এবং শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করেই প্রস্তাবনার ভিত্তি গড়ে তোলা হয়েছে। জুনিয়র থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের সময়টি—যখন তাদের কৌতূহল বৃদ্ধি পায়, আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ শুরু হয়, সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মূল লক্ষ্য ছিল এমন পরিসর তৈরি করা, যা শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনকে নানাভাবে আন্দোলিত করবে ও ইতিবাচকভাবে অনুপ্রাণিত করবে। ৮, ৯ এবং ১০ ফেব্রুয়ারি, আইএবি সেন্টারে তিনদিনব্যাপী এই প্রদর্শনী চলবে প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

News Link

02 February, 2026